Tuesday , 19 March 2019

নড়িয়ায় গৃহবধুকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

নড়িয়া প্রতিবেদক ॥ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় এক গৃহবধুকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ ঘটনায় নির্যাতিত গৃহবধু বিচার চাইতে থানায় গেলেও মামলা নেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য গৃহবধুকে বিভিন্নভাবে হুমকী দেয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও নির্যাতিতা গৃহবধুর অভিযোগ থেকে জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের মধ্য চামটা গ্রামের এক রিক্সাচালকের স্ত্রীকে একই গ্রামের মৃত মজিদ তালুকদারের ছেলে টিটু তালুকদার গত ২৭ অক্টোবর রাত ৯ টায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় গৃহবধুর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে টিটু দৌড়ে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় সে তার পায়ের স্যান্ডেল ফেলে রেখে যায়। বিষয়টি টিটুর চাচা আজিজ তালুকদারকে জানালে তিনি গৃহবুধুকে উল্টো গালমন্দ করেন। বাধ্য হয়ে মেয়েটি ২৮ অক্টোবর সকালে নড়িয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ লিখিত অভিযোগ না নিয়ে তদন্তের কথা বলে মেয়েটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা নেয়া হয়নি। এদিকে চামটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল মৃধা, ছেলের চাচা আজিজ তালুকদার সহ স্থানীয় প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
নির্যাতিতা গৃহবধু বলেন, সোমবার রাত ৯ টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে এলে আগে থেকেই ওতপেতে থাকা টিটু তালুকদার গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মুখ থেকে গামছা সরিয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে এবং ছেলেটি দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরের দিন আমি থানায় গেলে পুলিশ তদন্তের কথা বলে আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে ছেলেটির পায়ের স্যান্ডেলও জব্দ করে নিয়ে যায়। কিন্তু এখনও মামলা নেয়নি। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ছেলের লোকজন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকী দিচ্ছে।
প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম তালুকদার ও সোহেল তালুকদার জানান, চিৎকার শুনে তারা ছুটে আসেন এবং টিটুকে পালিয়ে যেতে দেখেন। এ সময় টিটু তার পায়ের স্যান্ডেল ফেলে রেখে যায়।
ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার বিষয়ে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল মৃধার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বিষয়টি মীমাংসার কোন দায়িত্ব নেননি। তবে অভিযুক্ত টিটু ও নির্যাতিতা গৃহবধুর যেহেতু আলাদা সংসার ও ছেলেমেয়ে রয়েছে, তাই তাদের সংসারের কথা চিন্তা করে বিষয়টি সবার ভুলে যাওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে নড়িয়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) শেখ কবিরুল ইসলামের সাথে শনিবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেয়েটির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলা নেয়া হয়নি।
শরীয়তপুর২৪ ডটকম/অপরাধ/নারী/নড়িয়া/১ নভেম্বর ২০১৪/


One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*