Sunday , 17 February 2019

শরীয়তপুরে এইচএসসি পরীক্ষার কারণে ১৪ স্কুলে পাঠদান ব্যহত

শহীদুল ইসলাম রানা ॥ চলতি ২০১৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার কারণে শরীয়তপুরের ১৪টি উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোকে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত হওয়ায় পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন দেড় মাস বন্ধ থাকার পর এখন আবার এইচএসসি পরীক্ষার কারণে এক মাস বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৩ এপ্রিল থেকে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আগামী ৯ জুন পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। চলতি বছর শরীয়তপুরে ২১ টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এসব পরীক্ষার্থীদের জন্য ৭টি কলেজকে কেন্দ্র বানানো হয়েছে। কিন্তু স্থান সংকুলান না হওয়ায় কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত ১৪ টি উচ্চ বিদ্যালয়কে বন্ধ ঘোষণা করে সেখানে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। বিদ্যালয় গুলো হচ্ছে শরীয়তপুর জেলা শহরের পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ডোমসার জগৎচন্দ্র ইনস্টিটিউশন, জাজিরা উপজেলার বিকেনগর পাবলিক হাই স্কুল, দক্ষিণ ডুবলদিয়া আব্দুর রাজ্জাক হাই স্কুল, জাজিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নড়িয়া উপজেলার বিঝারী উপসী তারাপ্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়, ডগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল, বিহারীলাল উচ্চ বিদ্যালয়, সুরেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার ভেদরগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ডামুড্যা উপজেলার ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় ও পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।
পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ এর অভিভাবক আলমগীর কবিরাজ বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারী থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার কারণে স্কুল বন্ধ ছিল। এখন আবার এইচএসসি পরীক্ষার কারণে বন্ধ থাকবে। শিক্ষকরা বলছেন, শুধু পরীক্ষার দিন বন্ধ থাকবে। কিন্তু তাতে লাভ কী ? দুই মাস ব্যাপী পরীক্ষার মধ্যে ৩০ দিন পরীক্ষা আছে। আবার ৮/৯ টা শুক্রবার আছে। এভাবে যদি পরীক্ষার কারণে ৪ মাস স্কুল বন্ধ থাকে, তাহলে আমার ছেলের পড়াশুনা কিভাবে হবে ?
ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ ও শাকিল বলেন, এসএসসি ও জেএসসিতে আমাদের বিদ্যালয় অনেকদিন বন্ধ ছিল। এখন কলেজের পরীক্ষার কারণে আবার দুই মাস বন্ধ থাকবে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস না হলে আমাদেরও ঠিকমতো পড়ালেখা হয়না। বাধ্য হয়ে এখন শিক্ষকদের কাছে বেশি বেশি প্রাইভেট পড়তে হবে।
শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুচিত্রা রাণী বিশ্বাস বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কিন্তু এভাবে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় অনেক ক্ষতি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। এভাবে স্কুল বন্ধ থাকলে অন্যান্য স্কুলের তুলনায় আমাদের ছেলে-মেয়েদের রেজাল্ট খারাপ হবে। স্কুলের বদনাম হবে। এর দায় তো প্রশাসন নেবে না।
জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, পরীক্ষার মূল কেন্দ্রগুলোতে স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে যেদিন পরীক্ষা না থাকবে সেদিন বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর ২৪/শিক্ষা/০৪ এপ্রিল, ২০১৬ খ্রি:/


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*