Sunday , 17 February 2019

সিরিঞ্জ সংকটে শরীয়তপুরে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত

Medical ampoules and syringe

কাজী মনিরুজ্জামান ॥ গত দুই মাস ধরে শরীয়তপুরে ইপিআই কার্যক্রমে শিশু কার্ড আর বিসিজি টিকার সিরিঞ্জ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ইপিআই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিসিজি টিকা থাকলেও সিরিঞ্জ না থাকায় টিকাদান কেন্দ্রে আসা শিশুদের অভিভাবকরা ফিরে যাচ্ছেন টিকা না দিয়েই। শিশু কার্ডের সংকট দেখা দেয়ায় ফটোকপি আর সাদা কাগজে রেকর্ড রাখতে বাধ্য হচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। এর ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন। অন্যদিকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নবযাতক শিশু ও অভিভাবকরা। কেন্দ্রীয়ভাবে এসব উপকরণ না থাকায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে তবে সরবরাহ নিশ্চিত হলে এ সংকট দূর হওয়ার কথা জানিয়েছে সিভিল সাজর্ন অফিস।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে সর্বশেষ ১ হাজার ৮শ বিসিজি সিরিঞ্জ ও শিশুকার্ড স্টোরে জমা হয়। ওই বছরের ২ নভেম্বর শিশুকার্ড আর ১ ডিসেম্বর সকল বিসিজি সিরিঞ্জের স্টক শেষ হয়। এরপর থেকে আর কোন কার্ড বা সিরিঞ্জ জমা হয়নি স্টোরে। ফলে গত দুই মাস ধরে শিশুকার্ড আর বিসিজি সিরিঞ্জের ব্যাপক সংকট দেখা দেয় সদর হাসপাতালের নিয়মিত টিকাসেলসহ জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এছাড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পরিচালিত টিকাদান কেন্দ্রগুলিতেও এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হলে যেমন বিসিজি টিকার লক্ষ্যমাত্র অর্জন সম্ভব হবে না তেমনি ইপিআই কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হবে। দূর দূরান্ত থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকরা শিশুদের জন্য জরুরি শিশুকার্ডটি না পেয়ে আর বিসিজি টিকা দিতে না পেরে ক্ষোভ আর হতাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। শিশুদের টিকা দিতে না পেরে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তারা শঙ্কিত।

শরীয়তপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের টিকাদান সেলটিতে বিসিজি টিকা দেয়ার সিরিঞ্জ না থাকায় নবযাতক শিশুদের বিসিজি টিকা না দিয়েই বাড়ি ফেরত যেতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। শিশুকার্ড না থাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফটোকপি করে একরকম চালিয়ে নিচ্ছেন। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই টিকা দিয়ে আসা শিশুদের অভিভাবকদের সাথে স্বাস্থ্যকর্মীদের কথা কাটাকাটি হচ্ছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, শিশু কার্ড না থাকায় সাদা কাগজে শিশুদের টিকা দেয়ার রেকর্ড রাখছেন স্বাস্থ্যকর্মী। কয়েকটি ইউনিয়নের টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কোন কোন কেন্দ্রে শিশুকার্ড ও বিসিজি সিরিঞ্জ থাকলেও তা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আবার কোন কোন কেন্দ্রে শিশুকার্ড ও বিসিজি সিরিঞ্জের সংকট দেখা দিয়েছে। যদি নতুনভাবে সরবারহ না করা হয় তাহলে পরবর্তী সেশনগুলি পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হবে। ফলে চরমভাবে ব্যাহত হবে টিকাদান কর্মসূচি।

রুদ্রকর থেকে বাচ্চাকে বিসিজি টিকা দিতে নিয়ে আসা ইয়াসিন হোসেন বলেন, কয়েকবারই টিকা দিতে বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি। টিকা আছে কিন্তু সিরিঞ্জ না থাকায় টিকা দিতে পারছি না ফেরত যেতে হচ্ছে। এতো ছোট বাচ্চাকে নিয়ে যদি বার বার হয়রানি হতে হয় তবে বাচ্চার সমস্যা হলে কে দেখবে? ইমরুল ইসলাম ওমরের মা রওনক জানান , আমার বাচ্চার কার্ডটি ফটোকপি করে দেয়া হয়েছে। এখনই কার্ডটি নষ্ট হয়ে গেছে। এই কার্ড দিয়ে ভবিষ্যতে শিশুর স্কুলে ভর্তি, জন্ম নিবন্ধনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিভাবে করবো?

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী শাহ আলম বলেন, সদর হাসপাতালের ইপিআই শাখায় দীর্ঘ দিন ধরে শিশুকার্ড সংকট এবং শিশুদের জন্মের পর যে বিসিটি টিকা দেয়া হয় তার সিরিঞ্জ নাই। এজন্য আমরা শিশুদের বিসিজি টিকা দিতে পারছি না। এটা নিয়ে নিত্যদিন অভিভাকদের সাথে ঝগড়াঝাটি-কথাকাটাকাটি হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সমস্যায় ভুগছি।

শরীয়তপুর সিভিল সার্জন মোঃ মসিউর রহমান বলেন, দুইমাস ধরে বিসিজি টিকার সিরিঞ্জ ও শিশুকার্ডের অভাব রয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। যার ফলে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তবে সরবরাহ নিশ্চিত হলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।

শরীয়তপুর২৪/স্বাস্থ্য/নারী ও শিশু/১৪ মে, ২০১৬ খ্রি:/


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*