Sunday , 17 February 2019

ডামুড্যায় নৌকার তলা ফুটো করছেন দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান

Alomgir-maziশরীয়তপুর ২৪ সংবাদ ॥ শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের অধিকাংশ স্থানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রকাশ্যে ইন্ধন দিয়ে নৌকার ভরাডুবি ঘটাতে সচেষ্ট রয়েছেন দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান। আগামী ৪ জুন এসব ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডামুড্যা উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ইসলামপুর, ধানকাঠি, কনেশ্বর, দারুল আমান, শিধুলকুড়া, সিড্যা ও পূর্ব ডামুড্যায় ৪ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৭ টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি অধিকাংশ স্থানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ায় এবং নৌকার বিপক্ষে উস্কানীমূলক বক্তব্য দেয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এর জের ধরে নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে তারা। গত ২৯ মে বিকালে ইসলামপুর ইউনিয়নের বিন্দাইকাঠিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিন উদ্দীন ঢালীর এক নির্বাচনী সভায় তিনি নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান দ্বীন মোহাম্মদ দুলাল ও তার সমর্থকদের ভূয়া আখ্যায়িত করে তাদের প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন। পরেরদিন বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা অতি উৎসাহিত হয়ে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায় এবং ৪ টি দোকান, ২ টি বাড়ি ও নৌকা প্রার্থীর ব্যক্তিগত মোটর সাইকেলটি ভাংচুর করে। এর জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয় এবং ২০ জন দলীয় নেতাকর্মী আহত হয়। এছাড়া পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ লিটন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রচারণা চালাচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী বিল্লাল হাওলাদারের পক্ষে। ধানকাঠি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক পিন্টু দলীয় প্রার্থী হলেও তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম মাওলা রতনের পক্ষে। সিড্যা ইউনিয়নে আমিন উদ্দীন আমিন দলীয় প্রার্থী হলেও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রচারণা চালাচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ জেবুল হক এর পক্ষে। দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান এসব ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে প্রকাশ্য জনসভায় অংশ নিয়ে নৌকার বিপক্ষে ভোট চাচ্ছেন এবং তার প্রার্থী বিজয়ী না হলে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ঐ ইউনিয়নে কোনো উন্নয়ন হবে না বলে হুমকী দিচ্ছেন। নৌকার বিপক্ষে উপজেলা চেয়ারম্যানের এই প্রকাশ্য অবস্থানের পরেও তার বিরুদ্ধে দল থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিটি ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নির্বাচনের আগে ও পড়ে বড় ধরণের সহিসংতার আশঙ্কা রয়েছে।
ধানকাঠি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক পিন্টু বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করা ওনার পুরনো অভ্যাস। ইতিপূর্বে দল বিরোধী কর্মকান্ডের কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় উনি বহিস্কৃত হয়েছিলেন। ৯ বছর বহিস্কৃত থাকার পর সম্প্রতি তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়। এখন তিনি পুনরায় দলের ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী দ্বীন মোহাম্মদ দুলাল বলেন, ইসলামপুর একটি শান্তিপূর্ন ইউনিয়ন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানের ইন্ধনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন নিজেদের মধ্যে সংঘাত করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি বলেন, দলের মনোনয়ন সঠিক হয়নি, তাই বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করছি। তবে আমি কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য দেইনা।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবলু সিকদার বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নৌকার বিপক্ষে কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শরীয়তপুর২৪/ডামুড্যা/নির্বাচন/রাজনীতি/০১ জুন, ২০১৬ খ্রি:/


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*