Sunday , 17 February 2019

কাঁচিকাটায় প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

22.08.16শরীয়তপুর ২৪ সংবাদ ॥ শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল কাঁচিকাটা ইউনিয়নে এক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষিত হয়েছে। গত বুধবার এ ঘটনা ঘটলেও সমাজপতিতের চাপে আইনের আশ্রয় নিতে পারেনি বাক প্রতিবন্ধী শিশুটির দরিদ্র পরিবার। স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিচারের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
নির্যাতিতা শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চারিদিকে পদ্মা বেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল কাঁচিকাটা ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি গ্রামের মৃত আমানুল্লাহ ফকিরের ছেলে লতিফ ফকির (৩৫) বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে প্রতিবেশী ১২ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। প্রতিবেশী সানাউল্লাহ বেপারী খালি ঘরে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির গোঙ্গানীর শব্দ পেয়ে শিশুটির বড় বোন বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। এ সময় আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে লতিফ দৌড়ে পালিয়ে যায়। শিশুটিকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়ার পরেও রক্তক্ষরণ বাড়তে থাকায় পরের দিন তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রতিবন্ধী শিশুটির দাদী বলেন, আমার নাতনির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। বোবা মেয়ে কিছু বলতেও পারছে না। ওর কষ্ট দেখলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনা।
প্রতিবেশী সানাউল্লাহ বেপারীর স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, লতিফ আমাদের খালি ঘরে নিয়ে প্রতিবন্ধী শিশুটিকে নির্যাতন করেছে। ওর নিজের বউ আছে, দুইটা বাচ্চা আছে। এ জঘন্য ঘটনার বিচার হওয়া উচিত।
শিশুটির বাবা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য আমানুল্লাহ সরদার, ছেলের চাচা হাসমত আলী ফকির, ছেলের শ্বশুর হাবিবুল্লাহ গাজী, স্থানীয় জাহান উল্লাহ বেপারী, মিলন মুন্সী, দুলাল ম্ন্সুী, শফি মুন্সী ও মোহাম্মদ আলী সরদারকে জানালে তারা থানায় যেতে নিষেধ করেন এবং নিজেরাই বিচারের আশ্বাস দেন। কিন্তু ঘটনার পর ৫ দিন পার হয়ে গেলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উল্টো ধর্ষক লতিফ ফকির এলাকায় অবস্থান করে শিশুটির পরিবারকে দেখে নেয়ার হুমকী দিচ্ছেন।
বিষয়টি জানতে লতিফ ফকিরের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, সে চরে ধান কাটতে গেছে। কখন আসে ঠিক নাই।
স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আমানুল্লাহ সরদার বলেন, শিশুটির বাবা আমাকে বিষয়টি জানানোর পর আমি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। তিনি ওদেরকে তার কাছে যেতে বলেছিলেন, কিন্তু ওরা যায়নি।
অভিযুক্ত ধর্ষক লতিফ ফকিরের শ্বশুর স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিবুল্লাহ গাজী বলেন, ঘটনা যেহেতু ঘটে গেছে, এখন আর কি করার আছে ? আমরা সমাজের দশ জন মিলে বিষয়টি মীমাংসা করবো বলেছি।
স্থানীয় মুরুব্বী আজিজুল হক হাওলাদার বলেন, বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। আমরা ২/১ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করবো।
প্রতিবন্ধী শিশুটির বাবা বলেন, আমার নিজের জায়গা-জমি নেই। এখানে মুন্সীদের জায়গায় ঘর উঠিয়ে থাকি। স্থানীয়দের কথার বাইরে আমি থানায় যাই কিভাবে ? সমাজের কথা না শুনলে সমাজ আমাকে এখানে থাকতে দেবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাঁচিকাটা বাজারের এক পাট ব্যবসায়ী বলেন, ছেলের পক্ষ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। ওদের কথা না শুনলে মেয়ের পরিবার এলাকায় থাকতে পারবেনা। তাই ওরা ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারছেনা।
বিচারের আশ্বাস দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল হাসেম দেওয়ান বলেন, শিশুটিকে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়ে থাকি। আমানুল্লাহ মেম্বার ঘটনাটি আমাকে জানানোর পর আমি তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি। তারা আইনের কাছে না গেলে আমি কি করবো ?
শরীয়তপুর২৪/ভেদরগঞ্জ/অপরাধ/নারী ও শিশু/২২ আগষ্ট, ২০১৬ খ্রি:/


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*