Sunday , 17 February 2019

জাজিরায় পদ্মার ভাঙ্গনে গৃহহীন ৩ শতাধিক পরিবার

Shariatpur river errosion 01শরীয়তপুর ২৪ সংবাদ ॥ শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙ্গনে গত দুই দিনে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রচন্ড স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় রবিবার থেকে ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে কুন্ডেরচর ইউনিয়নের কলমিরচর বাজার সহ অর্ধ শতাধিক পাকা স্থাপনা ও দুই হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সরজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই কুন্ডেরচর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে ভাঙ্গন শুরু হয়। তবে ভাঙ্গনের তীব্রতা অনেক কম ছিল। কিন্তু গত দুই দিনে নদীর প্রচন্ড স্রোতের কারণে ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কলমিরচর বাজার পুরোটাই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এই বাজারে ২৩১ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ ভেঙ্গে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হলেও ২০ টি প্রতিষ্ঠান নদীতে তলিয়ে যায়। এছাড়া কলমিরচর জামে মসজিদ সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক পাকা বাড়ি ও দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সময় স্বল্পতায় বাড়ির মানুষ শুধুমাত্র ঘরের মালামাল নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছেন। ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে থাকায় আরো প্রায় শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অর্থ ও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেককেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
Shariatpur river errosion 04কুন্ডেরচর ইউনিয়নের মমিন আলী খালাসি কান্দি গ্রামের মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার টিনের ঘর ভেঙ্গে সরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু আমার প্রতিবেশী সিরাজ খালাসি, জৈনদ্দিন খালাসি ও ইকবাল খালাসির পাকা বাড়ি হওয়ায় ঘরের ভেতরের মালামাল ছাড়া কিছুই নিতে পারেনি।
সত্তর বছর বয়সী আলী আশ্রাফ মাদবর বলেন, জীবনে ৪/৫ বার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছি। কিন্তু ভাঙ্গনের এমন ভয়াবহতা আগে দেখিনি। চোখের পলকে সব নদীতে চলে যাচ্ছে। অসহায় মানুষ নিজেদের মালামালও ঠিকমতো সরিয়ে নিতে পারছেনা।
কুন্ডেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোতালেব মোল্যা বলেন, নদী ভাঙ্গনের কারণে চলতি মৌসুমে কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ৫ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। আমি নিজেও আমার বাড়ি ভেঙ্গে সরিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরীর কারণে অনেককেই ঘরবাড়ি সরাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, আমি ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় গিয়েছিলাম। তাদেরকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদের সাধ্যমতো সব ধরণের সহায়তা করা হবে।
শরীয়তপুর ২৪/জাজিরা/দুর্ঘটনা/৩০ আগষ্ট, ২০১৬ খ্রি:/


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*