Sunday , 17 February 2019

ভেদরগঞ্জের ইউএনও এবং একজন পিতৃহীন রোকসানার গল্প

মইনুল ইসলাম ॥ শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি গ্রামের মৃত মিজান মাঝির মেয়ে রোকসানা আক্তার (১৬)। পরিবারের শত অভাব অনটনের মাঝেও পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছিল সখিপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্রী রোকসানা। কিন্তু হঠাৎ করেই পাশের তারাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এক প্রবাসী ছেলের সাথে অপ্রাপ্তবয়স্ক রোকসানার বিয়ে ঠিক হয়। মা রাবেয়া বেগম ও আত্মীয়-স্বজনের অনুরোধ এবং সংসারের অভাব অনটনের কথা চিন্তা করে রোকসানা তার পড়াশুনার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়েতে রাজী হয়। ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রোকসানাদের বাড়িতে বিয়ের সমস্ত আয়োজনও সম্পন্ন করা হয়।
কিন্তু পিতৃহীন রোকসানার ভাগ্যটা যেন অন্যভাবে লেখা ছিল। স্থানীয় কোনো সচেতন ব্যক্তির কাছ থেকে রোকসানার বাল্যবিয়ের সংবাদ পান ভেদরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ। সাথে সাথে ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ থেকে তিনি ছুটে যান সখিপুরের ছৈয়ালকান্দি গ্রামে রোকসানাদের বাড়িতে। তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে বন্ধ করে দেন তিনি। এ সময় রোকসানা ও তার মায়ের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, রোকসানার পড়াশুনার আগ্রহ আছে। কিন্তু পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণেই রোকসানার বিধবা মা তার বিয়ে দিতে চান। তখন ইউএনও সাব্বির আহমেদ নিজেই রোকসানার পড়াশুনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সখিপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে এনে পড়াশুনার জন্য রোকসানাকে তার হাতে তুলে দেন।
স্বপ্নভঙ্গ থেকে পুনরায় স্বপ্ন পূরণের পথে ফিরে আসা কিশোরী রোকসানা বলেন, অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি বিয়েতে রাজী হয়েছিলাম। সবকিছু আমি আমার ভাগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে একজন ভালো মানুষ এসে আমাকে রক্ষা করলেন এবং আমার স্বপ্ন পূরণের পথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমি ভালোভাবে পড়াশুনা করে স্যারের মতো ভালো মানুষ হতে চাই।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা আপনার আমার সকলের দায়িত্ব। আমি শুধু আমার দায়িত্বটুকো পালন করার চেষ্টা করেছি। আর পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে রোকসানার পড়াশুনা যাতে বন্ধ হয়ে না যায়, এজন্য তার পড়াশুনার দায়িত্ব নিয়েছি। যার যার অবস্থান থেকে আমাদের সকলেরই এ ধরণের সহযোগিতা করা উচিত।
শরীয়তপুর২৪/ভেদরগঞ্জ/নারী ও শিশু/২১ এপ্রিল, ২০১৮ খ্রি:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*