Sunday , 17 February 2019

ডামুড্যায় জিপিএ -৫ প্রাপ্ত আল আমিনের বাড়িতে উপহার নিয়ে গেল র‌্যাব

কাজী মনিরুজ্জামান ॥ চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ -৫ পাওয়া শরীয়তপুরের আল আমীনকে অভিনন্দন জানিয়ে তার বাড়িতে ফুল, মিষ্টি ও নগদ অর্থ উপহার পাঠিয়েছেন র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদ। আল আমীন ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের সৈয়দবস্তা গ্রামের চানাচুর বিক্রেতা খোরশেদ ফকিরের ছেলে। শনিবার রাত ৮টার সময় আল আমীনের বাড়িতে গিয়ে আল আমীনের বাবা-মার হাতে এসব উপহার তুলে দেন র‌্যাব -৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তাজুল ইসলাম। এ সময় ডিএডি কামরুজ্জামান, ল্যান্স নায়েক বাসের প্রমুখ তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।
র‌্যাবের সদস্যরা খোরশেদ ফকিরের বাড়িতে পৌঁছালে আল আমীনের বাবা ও পরিবারের সদস্যরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। আবেগ আপ্লুত হয়ে খোরশেদ ফকির বলেন, মিষ্টি কিনতে পারি নাই। মিষ্টি লইয়্যা কেউ অহনতরি বাড়ি আহে নাই। পোলাডায় ঢাকায় গেছে, বাইত্তে থাকলে খাওয়াইতে পারতাম। চানাচুর আর ঝালমুড়ি বেইচ্চা ৮ জনের সংসার চালাইতে জীবন যায়। অহন ক্যামনে ওর পড়া লেহা চালাইমু তা ভাইব্যা পাই না। আমার ছেলেডার লেইগ্যা আপনারা দোয়া করবেন, যেন ওর স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।
ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব মাদারীপুর কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় আল আমীন। সব বাধা পেরিয়ে দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে অদম্য ইচ্ছা শক্তি দিয়ে আল আমীন জিপিএ ৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়। এর আগে ইকরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি’তে জিপিএ ৫, ইমাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি’তে জিপিএ ৪.৮০ এবং একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি’তে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
আল আমীনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে প্রথমেই তিনি বাড়িতে উপহার নিয়ে যাওয়ার জন্য র‌্যাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এটা তার ভবিষ্যত জীবনে ভালো কাজের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে জানান।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল শরীয়তপুর২৪ কে আল আমীন বলেন, কোনো বাধাই মানুষের ইচ্ছা শক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারে না। আমার মেধাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি তৈরি করার স্বপ্ন দেখি। যেখানে দরিদ্র পরিবারের মেধাবি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বাবা খুব কষ্ট ক্লেশ করে বিশাল একটি সংসারের ঘানি টানছেন। সংসারের হাল ধরে মা বাবার মুখে হাসি ফোটাতে চাই। আমার এ পথ চলায় যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন এবং করছে প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
র‌্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার একটি অনলাইন পোর্টালে আল আমীনের সাফল্যের এই সংবাদ পড়ে ডিজি স্যার তার পক্ষ থেকে আল আমীনকে অভিনন্দন জানানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী আল আমীনের বাড়ি যাই। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আল আমীন ঢাকায় থাকায় স্যারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্বরুপ ফুলের তোড়া, মিষ্টি আর নগদ ১০ হাজার টাকা তার বাবা-মার হাতে তুলে দিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে তার জন্য শুভ কামনা রইল।
শরীয়তপুর২৪/ডামুড্যা/শিক্ষা/এমএইচ/২৯ জুলাই, ২০১৮ খ্রি:


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*